Posts

Showing posts with the label Books & Films

ডানকার্কঃ নোলানের চোখে ইতিহাসের গল্প

Image
ক্রিস্টোফার নোলান   । এই একটি শব্দই হলিউড কাঁপানোর জন্য যথেষ্ট। ব্যাটম্যান ট্রিলজি , প্রেস্টিজ , ইনসেপশন , ইন্টারস্টেল্যার  ইত্যাদি খ্যাত এই ডিরেক্টর প্রথম বারের মত পর্দায় এনেছেন যুদ্ধ ভিত্তিক সিনেমা, ডানকার্ক । অনেকটা নিজের কমফোর্ট জোনের বাইরে এসে প্রথমবারের মত মাঠে নেমেছেন নোলান।  শুরুতেই ডানকার্কের ইতিহাস নিয়ে জেনে নেই কিছু তথ্য। ডানকার্ক সমুদ্র বন্দর অবস্থিত নর্দান ফ্রান্সে। ডানকার্ক এর বিভীষিকাময় যুদ্ধ নিয়েই নোলানের ডানকার্ক সিনেমা। ১৯৪০ সাল, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ব্রিটিশ এর প্রায়  ৪ লক্ষ সৈন্য আটকে পড়ে ডানকার্ক সি পোর্টে। জার্মান সৈন্যরা তাদের ঘিরে ফেলেছিল চারপাশ থেকেই।                                                                   ডানকার্ক ইভাকুয়েশন টাইমলাইন আটকা পড়া সৈন্যের সংখ্যার তুলনায় উদ্ধারের জন্য আসা জাহাজের সংখ্যা ছিল খুবই কম। তা...

Cell 211: Story of A Prison

Image
ধরুন আপনাকে যদি একটা জেলে , এক জেল সেল আনলকড কয়েদিদের মাঝে রেখে আসা হয় , আর আপনি যদি হন কর্তৃপক্ষের কোন মানুষ তবে আপনার অনুভূতি কি হবে ? কি নিয়ে ভাববেন ? এক দল ফাঁসীর দণ্ডপ্রাপ্ত খুনী , ধর্ষক , চোর , ডাকাতের মাঝে দাঁড়িয়ে কি হবে আপনার প্রথম চিন্তা ? পরিবারের কথা ? নাকি কিভাবে মৃত্যু হবে তা অনুমান করবেন ? যদি খুব বেশি ভাবতে না চান তাহলে দেখে নিতে পারেন Daniel Monzon পরিচালিত স্প্যানিশ প্রিজন মুভি Cell 211 . প্রিজন রিলেটেড মুভি যারা পছন্দ করেন তারা আশা করি নিরাশ হবেন না মুভিটি দেখে! Theatrical release poster Juan Oliver ছা পোষা গোছের মানুষ , বিবাহিত। নতুন চাকরী হয় Prison Guard হিসেবে। গর্ভবতী স্ত্রী এলেনাকে রেখে  চাকরীর প্রথম দিনের আগেই জেলের নিয়ম কানুন ভাল ভাবে জানতে আর নিজেকে দায়িত্বশীল প্রমান করতে রওনা দিলেন জেল ইন্সপেকশনে। এই যাওয়াই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা হয়তো স্বপ্নেও ভাবেন নি Juan. আচমকা এক একসিডেন্টে বেহুঁশ হয়ে পড়েন জেলের ভেতরেই। ঘটনার আকস্মিকতায় কর্মরত দুই পুলিশ সদস্য তাকে কারাগারের একমাত্র খালি কামরা Cell 211 এ  নিয়ে চিকিৎসা দিতে থাকে। আর তখনই জেলের ভেতর...

একজন রেড আর ডুফ্রেইন এর গল্প

Image
প্রি জন রিলেটেড মুভি  কিংবা সিরিজ নিয়ে অনেকেরেই ফ্যান্টাসি সেই লেভেলের। যদি আপনি সেই ক্যাটাগরি তে পড়েন, তাহলে এন্ডি ডুফ্রেইন কে নিশ্চয়ই চিনেন? রেড এর কথা বলা লাগবে কি আর??  বলছি   Frank Darabont এর অসাধারণ মুভি   The Shawshank Redemption এর কথা। কিছু কিছু মুভি দেখে আপনার ভিতরে কিছু চেইঞ্জ আসবে, এটা ওইরকম লেভেলের একটা মারাত্মক মুভি। টিম রবিন্সকে এন্ডি ডুফ্রেইন চরিত্র আর মরগান ফ্রিম্যানকে রেড চরিত্রে দেখা যায়। যদিওবা স্ক্রিপ্ট রেডি হওয়ার পর প্রথমে খুবই পরিচিত তারকা টম ক্রজকে এন্ডি ডুফ্রেইন চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, কিন্তু সিডিউল না মিলায় টম কে আর দেখা যায় নি ছবি তে।  মুভি টি   Rita Hayworth and Shawshank Redemption বই থেকে অনুপ্রাণিত। বলা হয়ে থাকে এক টি ভালো মুভি বানাতে কি লাগে?   স্ক্রিপ্ট স্ক্রিপ্ট স্ক্রিপ্ট ।   এই মুভির স্ক্রিপ্ট এত দারুণ আর এনডিং সাস্পেন্স যে লাখ লাখ মানুষ এর ধারণার বাইরে ছিল তা আপনি নিজে দেখলেই বুঝতে পারবেন। মুভিতে প্রথম যখন এন্ডি ডুফ্রেইন রেড এর কাছে যাচ্ছিল তখন রেড নুড়ি পাথর দিয়ে খেলছিল, এ...

তারেক মাসুদ- এক অনুপ্রেরণার নাম

Image
                                                                                             তারেক মাসুদ, চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে যে কজন ক্ষণজন্মা পুরুষ জন্ম নিয়েছেন, তার মধ্যে তারেক মাসুদ এক অনন্য নাম। দেশের চলচ্চিত্রে যখন একের পর এক মানহীন, কাহিনীহীন ছবি তৈরি হচ্ছিল, তখন তিনি নিয়ে আসেন সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার ছবি, যা সাধারণের মাঝে হয়ে ওঠে ব্যাপক জনপ্রিয়। বিশেষত দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার নিয়ে তার চলচ্চিত্রগুলো নিয়ে আসে এক নতুন মাত্রা। যা আমাদের চলচ্চিত্রে সৃষ্টি করে এক নতুন দিগন্ত। বাণিজ্যিক ধারার ছবিতে ভেসে যাওয়া এদেশের চলচ্চিত্র খাতে জহির রায়হান ও আলমগীর কবিরের পর গতানুগতিকতামুক্ত  ছবি তৈরিতে যে কজন পরিচালকের নাম আসে, তার মধ্যে তারেক মাসুদের নাম আসে সবার প্রথমেই। শুধু পরিচালক...

হালের চলচ্চিত্র ও তার হালচাল

Image
যে কোন দেশের সংস্কৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে সে দেশের চলচ্চিত্র। একটি দেশের মানুষ, তাদের কথা, তাদের সংস্কৃতি, ইতিহাস সবই চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান খোরাক হচ্ছে চলচ্চিত্র। এদেশের চলচ্চিত্রের রয়েছে এক সোনালী ইতিহাস। ষাট বা সত্তরের দশকে সাদা কালো সেইসব চলচ্চিত্রের সেইসব দিনগুলো আজো আমাদের মনে দেয় দোলা। রাজ্জাক কবরীদের সেই সব সিনেমাগুলো দেখার জন্যে হলে হলে পড়ে যেত হিড়িক। শবনম, কবরী, শাবানা, সুচরিতা দের মত নায়িকারা হৃদয়ে দোলা দিত হাজারো তরুণের। কালের পরিক্রমায় কেটে গেছে অনেকদিন। বিনোদনের মাধ্যম চলচ্চিত্র পেয়েছে নানাবিধ পরিবর্তন। কিন্তু, দুর্ভাগ্যের বিষয়, গত কয়েক দশকে আমাদের চলচ্চিত্র আশা অনুযায়ী উপরে উঠতে পারেনি। দিন দিন কমেছে মান।ফলে দর্শক হয়েছে হল বিমুখী। বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র গুলীর মান দিন দিন অধোগতির দিকে যায়। গৎবাঁধা  কিছু সস্তা কাহিনী নিয়ে ছবি তৈরি হতে থাকে। আশির দশকেও আমরা পেয়েছি আমজাদ হোসেনের ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’ র মত চলচ্চিত্র। এছাড়াও সুভাষ দত্তের ‘সকাল সন্ধ্যা’, কাম...

শার্লক হোমসের পেছনে যিনি

Image
শার্লক  হোমস এর  স্রষ্টা  স্যার  আর্থার  কোনান   ডয়েল  এর জন্ম ১৮৫৯  সালে  এডিনবরায় । তিনি ছিলেন  বিজ্ঞানের  শিক্ষার্থী । ১৮৭৬  সালে  এডিনবরা  বিশ্ববিদ্যালয়ে  ডাক্তারি পড়ার  সময়  ডাঃ জোসেফ বেলের সাথে তার যোগাযোগ  হয়। সুদক্ষ শল্য চিকিৎসক এই লোকটির রোগ নির্ণয়ের ক্ষমতা ছিল প্রখর। সামান্য লক্ষণ দেখেই  তিনি  সকলের  জীবন ও জীবিকার ইতিহাস বলে দিতে পারতেন । পরবর্তীকালে তিনি ডাক্তারি পাশ করে ব্রিটিশ সামরিক বিভাগে ডাক্তার হিসেবে কর্মরত হন। এ সময় তিনি বেশ কিছুদিন ভারতবর্ষে ছিলেন । তাঁর রচিত  উপন্যাসের  উৎস মূলত ভারতবর্ষ । তাঁর প্রথম উপন্যাস    “ এ  স্টাডি ইন  স্কারলেট “ প্রকাশের সাথে সাথে  তাঁর  সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে । এরপর থেকেই  সাহিত্য জগতে নিয়মিত হোন তিনি । ডাঃ জোসেফ বেলের বৈজ্ঞানিক যুক্তি , পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ পদ্ধতিকেই পরবর্তী জীবনে আরও প্রখর ও প্রসারিত করেছেন কোনান ডয়েল তাঁর সাহিত্যে  “ শার্লক হোমস “ ...

চলচ্চিত্রের সেইসব দিনগুলি! - পর্ব ৩

                                                 ১৯৭১: ক্যামেরাই যখন রাইফেল এল ১৯৭১। ২৫ শে মার্চ এদেশের মানুষের উপর ঝাপিয়ে পড়ল হানাদার বাহিনী। নির্বিচারে হত্যা করে চলল মানুষকে। বাংলার মানুষ ও থেমে রইল না। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে সারা বাংলায় মানুষ ঝাপিয়র পড়ল যুদ্ধে। লড়াই চলল দেশমাতৃকাকে মুক্তির জন্যে, সংস্কৃতিকে রক্ষার জন্যে। দেশের এই দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে বসে ছিলেন না এদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের মানুষেরা। তারাও ঝাপিয়ে পড়লেন তাদের ক্যামেরাটি কাধে নিয়ে। গণমানুষের লড়াইকে তারা সারা বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরতে লাগলেন। ক্যামেরা হয়ে উঠল তাদের রাইফেল। তৈরি করা হচ্ছিল যুদ্ধকালীন অবস্থা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র। সত্তরের ঐতিহাসিক নির্বাচন, ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর সেই কাপন ধরানো ভাষণ, গণহত্যা, শত শত মুক্তিযোধাকে নিয়ে খন্দকার মোশারফ হোসেনের শপথবাক্য পাঠ করানো, মানুষের লাশের স্তূপ, প্রাণভয়ে দেশত্যাগের চিত্র, লাশের উপর শকুন কুকুরের লড়াই ইত্যাদি ঘটনা নিয়ে তৈরি হতে লাগল অসংখ...

চলচ্চিত্রের সেইসব দিনগুলি! - পর্ব ২

                                                      ষাটের দশকে আমাদের চলচ্চিত্র মূলত ষাটের দশকেই বাংলা চলচ্চিত্রে ঘটে যায় এক বিপ্লব। দেশে তখন চলছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ তখন রাজপথে। কিন্তু স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের নিয়ন্ত্রনের কথা ভেবে তখনকার ছবিগুলোতে আন্দোলনের ব্যাপারটি খুব একটা তুলে ধরা হত না। এমনই এক সময়ে  চলচ্চিত্রের আকাশে উদিত হলেন এদেশের সর্বকালের সেরা পরিচালক জহির রায়হান, যিনি তার লেখনীর মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সচেষ্ট ছিলেন। ১৯৭০ সালে তিনি নির্মাণ করেন তাঁর সেই বিখ্যাত ছবিটি- জীবন থেকে নেয়া। এ ছবিতে তিনি সমকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব সূচারুভাবে রূপকের ব্যবহারে  ফুটিয়ে তুলেছিলেন। বাঙালীর মনে মূলত এই সিনেমাই বুনে দিয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের বীজ!      ...

চলচ্চিত্রের সেইসব দিনগুলি! - পর্ব ১

সোনালী দিনের মিষ্টি প্রেম! 'মুখ ও মুখোশ ছবির একটি দৃশ্য        বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই চলচ্চিত্রপ্রিয়। প্রযুক্তির দৌরাত্বের যুগ আসবার আগে একসময় এদেশের মানুষের বিনোদনের একমাত্র খোরাক ছিল চলচ্চিত্র।  আমাদের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ সব কিছু জড়িয়ে আছে চলচ্চিত্রে। একসময় আমাদের সিনেমাহল গুলো থাকত মানুষে সয়লাব। সিনেমা কখনও কাঁদাত, কখনও হাসাত, কখনও বা দিত জীবনবোধের গভীর কোন দিকের সন্ধান। অবাক হচ্ছেন? হবারই কথা! আজ যে আমাদের সেই স্বর্ণযুগ নেই আর! আজকের লেখাটি মূলত এদেশে চলচ্চিত্রের একদম প্রথম দিককার কাহিনী নিয়ে।     ব্রিটিশ আমলে ঢাকার নওয়াব পরিবারের কয়েকজন তরুণ সংস্কৃতিসেবী মূলত বাংলাদেশে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাদের উদ্যোগেই ১৯২৭-২৮ সালে নির্মিত হয় ‘সুকুমারী’। এ সিনেমার নায়ক নায়িকা ছিলেন খাজা নস্রুল্লাহ ও সৈয়দ আবদুস সোবহান। তখনো বাংলাদেশে নারীদের অভিনয়ের রেওয়াজ চালু হয়নি। নওয়াব পরিবারের উদ্যোগেই ঢাকায় ইস্ট বেঙ্গল সিনেমাটোগ্রাফ তৈরি হয়।  এর প্রযোজনায় ১৯৫১ সালে ঢাকার মুকুল হলেমুক্তি পায় নির্বাক চলচ্চিত্র দ্য লাস্ট কিস’।  ...