Posts

Showing posts with the label Novel & Stories

পরম্পরা ( পর্ব -১ )

Image
অন্তরাদিদি মরে গেলেন...... শেষকালে তিনি ভীষন কষ্টই পেয়েছিলেন বোধহয়। পাড়াপড়শিরা সবাই শোকাহত , নাকি শোকাহত হওয়ার অভিনয় করছে ? বোঝা যাচ্ছে না। তবে যাই হোক সবাই কেমন জানি চুপচাপ আর মহিলারা সবাই জোরে জোরে কাঁদছে। এই কান্নায় সুর ও আছে কথাও আছে। অদ্ভুত এক কান্না! সব আছে শুধু অনুভূতিটাই নেই!  অভি বসে আছে অনেক দূরে। এখান থেকে অন্তরাদিদির নিস্তেজ দেহটাকে দেখা যাচ্ছে না। তার বারবার মনে হতে লাগলো এটা কেন হল... ? অন্তরাদিদির মৃত্যুতে সে ও যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু তা অন্য কারনে। এরই মধ্যে অভি অনেককে বলতে শুনেছে কেও মারা গেলে কাঁদতে হয়। এতে নাকি মৃত আত্মা শান্তি পায়! যে কাঁদে না তাকে নাকি ওই মানুষটার ভূতে ধরে! অভি তাই চায়। তাই বোধহয় আজ সে কাঁদছে না। সে তার আশেপাশের মানুষগুলোকে অবাক হয়ে দেখছে। যে মানুষ গুলো এত বছর এত কাল অন্তরাদিদির সাথে কথা বলা তো দূরে থাক খোঁজ খবর পর্যন্ত নেয়নি তারাও আজ কাঁদছে। অনেকে আবার অন্তরাদিদির নামে সুনাম গাইছে। বড়ই অদ্ভুত এসব মানুষ!  অন্তরাদিদিকে জীবিত থাকা অবস্থায় তেমন কেউ পছন্দ করতো না। মোটামুটি এক ঘরে হয়েই থাকতো অন্তরাদিদি। যদিও সিদ্ধান্তটা অন্ত...

একটি স্বপ্ন আর মঙ্গলের মাটিতে বাংলা!

Image
-  বলতো পৃথিবীটা কার? -  ম্ ম্। ভাবতে দে......... আসলে পৃথিবীটা সবার! -  আচ্ছা! তাহলে বল মঙ্গল কার? -  আমার। -  তোর! মজা করিস না তো। আমি বলি , মঙ্গল আসলে কারোরই না। ওখানে তো কেউ  থাকে না। -  নাহ মঙ্গল আমার। আমি বলছি। -  আচ্ছা তুই যদি মঙ্গল এ গিয়ে থাকতে পারিস আর সাথে মানুষের বসতি গড়তে পারিস  তাহলে ধরে নিবো মঙ্গল তোর। হা হা হা! -  হুমম.........করবো -  হাসালি! তুই কি পাগল?   মঙ্গলে থাকা হয়ত সম্ভব ,  তবে তা তোর আর আমার জন্য না।  আমরা তো দরিদ্র দেশের দরিদ্র দুই ছেলে। মঙ্গলে যেতে অনেক টাকা লাগবে। তুই  তো তাও পারবি না।এতো টাকা পাবি কই???   হা হা হা! -  ব্যাপার না। -  পাগল ছাগলের কারখানা দেখি! -  তুই দেখবি একদিন...... সাল ২০৬৩... আজ মঙ্গলের মাটিতে বসে এসব ভাবছেন মার্স ওয়ান ইনহ্যাবিটেন্ট  চীফ শহীদুল ইসলাম। প্রায় ৫০ বছর আগের নেয়া এই প্রজেক্টের বদৌলতে ধ্বংস হওয়া পৃথিবীর মানুষেরা আজ মঙ্গলে। বহু দিন আগের সেই স্বপ্ন ,  সেই বন্ধু ,  হঠাৎ যেন শহীদুল ইসলামকে নিয়ে...

ধূসর ঘাস

Image
অ ন্তু। সময় সন্ধ্যা সাতটা বারো । একুশে  হলের  ৩০৮  পশ্চিম । রুমের দরজায়  কিঞ্চিত  আওয়াজ । রুম থেকে বের  হলেন  অন্তু । মুখে  কিছুটা চিন্তার ভাজ। দরজায় তালা দিবেন কি দিবেন না?? হুট করে ঠিক করলেন  তালা দেওয়া দরকার কি??  আমি তো একটা সিগারেট কিনতেই যাচ্ছি । পাঁচ  মিনিটের পথ।  সুতরাং আর কোনো চিন্তা না করেই  রুম থেকে বের হয়ে গেলেন সিগারেটের জন্য । তাকে সিগারেট কিনতে যেতে হবে হানিফ ভাইয়ের দোকানে ।সে এককালে দুলালের দোকান থেকে সিগারেট কিনত। কিন্তু গুনে গুনে ১৩৩৭ টাকা বাকি করার পর সে দুলালের কাছ  থেকে আর সিগারেট না নিয়ে পাশের হানিফ ভাইয়ের দোকান থকে সিগারেট নেয়। প্রতিবারই সে সিগারেট কেনার সময় দুলাল ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে...... “কেমন আছো ভাই ?” অন্তু সবসময়ই বলে বেড়ায় এই বকেয়া সে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার আগেই পরিশোধ করে যাবে । কিন্তু আমার মনে হয় একথাটা বলার সাথে সাথেই সে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে – “ সম্ভব তো??”।এই আশংকাটা তার বকেয়া পরিশোধ করা নিয়ে নয় । সিগারেট টানতে টানতে দোকান থেকে বের হয়ে ...

নিবিড়ের গল্প (পর্ব ৪)

Image
দরজার সামনে   দাঁড়িয়ে আছে নিবিড়ের ছোটমামা । মুখে তার চিরচেনা সেই হাসি ।  "কিরে বাবু , কই ছিলি এতক্ষন ? " নিবিড় জড়িয়ে ধরল তাকে । নিবিড়ের মা  ,  পরিবারের বড় মেয়ে । তার ছোট দুইটা ভাই আছে । তার   দুই মামা আর নানী সিলেটে  থাকে । ছোটমামার নাম রাসেল । নিবিড় ফ্রেশ হয়ে আসল ।   অনেক দিন পর ছোটমামা এসেছে বাসায় । আজ তাকে আর ছাড়ছেনা  সে । ছোটমামাকে নিয়ে তার রুমে  গেল সে । -  কি অবস্থা তোর ? - এইতো ভালই । তোমার ? - আছি তোদের দোয়ায় । - এবার কতদিনের জন্যে এলে ? - অফিস থেকে ছুটি নিয়ে এলাম , তিন কি চারদিন থাকব । - তিন - চারদিন তো দেখতে দেখতেই চলে যাবে । - কি আর করা , - নানী কেমন আছেন ? বড় মামা ? - আছে ভালই । অনেক দিন পর ভাই এসেছে তাই বিরানি রান্না করেছে নিবিড়ের মা । বেশ কিছুদিন ধরেই একটা সমস্যা হচ্ছে নিবিড়ের । প্রথমে কানের ব্যাথা শুরু হয় । এরপর ধীরে ধীরে  চোয়ালের ব্যাথা । এসময় কিছু খেতে কষ্ট হয় তার । নিবিড় মোবাইলে গুগল করে দেখে...